প্রেমিকার বিয়ে হলেই জীবন শেষ করে দিবেন না।

সম্প্রতি আমার প্রেমিকার বিয়ে হইছে।

নিঃসন্দেহে খুব খারাপ সময় কাটাচ্ছি। এর আগে যখন খারাপ সময় যেত তখন দেখা যেত সবাই ব্যস্ত। কেউ পাশে নেই। আশ্চর্যের ব্যাপার এবার একগাদা মানুষ পাশে আছে। এর আগে কখনো ভাবিনি আমায় এত্ত মানুষ ভালবাসে। আমি কাঁদছি। স্বভাবতই ওরা সারাদিন বুঝাচ্ছে। আমি বুঝতেছি। এরপর আবার কাঁদতেছি। আর ওরা বিরক্ত হচ্ছে। বিরক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কতবার বুঝানো যায়। খাচ্ছি কি না খবর নিচ্ছে। ঘুমাচ্ছি কি না খবর নিচ্ছে। অথচ আমি ঠিক হতে পারছিনা। এসব দেখে আমার নিজেরই মায়া লাগতেছে। নিজে কষ্ট পাচ্ছি। ওদেরও কষ্ট দিচ্ছি। ওরা সারাদিন আমার একটুখানি হাসির জন্যে এত্ত কিছু করছে। আর আমি ওদের দেখিয়ে হাঁসতে পারছিনা। কেউ কেউ আবার রাগও করছে। এসব ভেবে আরও কান্না পাচ্ছে। ইচ্ছা করছে ওদের সামনে চিৎকার করে হাসি। কিন্তু আমি পারছিনা। এই বন্ধু গুলার দুর্দিনে আমি ওদের অনেক বুঝাইতাম। অনেক যুক্তি উপস্থাপন করতাম। অথচ ওরা বুঝতনা। আর আমি বিরক্ত হতাম। মুখ দিয়ে গালিও আসত। আর আজ আমি সেই দলে। ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত। প্রথমত আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা আমার প্রেমিকার বিয়ে হয়ে গেছে। কেমন ঘোরের মধ্যে আছি। মনে হয় এই বুঝি ফোন দিবে। আর বলবে এতদিন পড়ার চাপে ফোন দিতে পারিনি। অনেকদিন একটা রুটিনের মধ্যে ছিলাম। হুট করে দিনটা শুরু হচ্ছে অন্যভাবে। রাতটা কাটতেছে অন্যভাবে। এসব মেনে নেয়া যাচ্ছেনা। বলে রাখা ভালো ওর কোন দোষ নেই। পরিবারের চাপে ওর কিছু করার ছিলনা। আর আমার অবস্থাও নেই ওর পরিবারকে কনভিন্স করার মত। একটাই রাস্তা ছিল পালিয়ে যাওয়া। মাঝে মাঝে দুজনের মধ্যে এসব নিয়ে অনেক কথা হত। একজন পালিয়ে যেতে চাইলে অন্যজন বুঝাতাম। কখনো আমি চাইতাম, ও বুঝাত। ও চাইলে আমি বুঝাতাম। গায়ে হলুদের দিনও ও ফোন দিলো। ফোন দিয়ে কাঁদল। বিয়ের দিনও দিলো। আমি বিয়ের দিন ক্লাবেও গেলাম। কিন্তু গিয়েও শেষ দেখাটা হলনা। যাব কি যাবনা এই সিদ্ধান্ত নিতে নিতে যতক্ষণে আমি গেলাম, বরের গাড়ী চলে গেছে। কষ্টটা শুরু হল এরপর। যখন বাসায় আসলাম, তখন বুঝলাম আসলে কি হারাইছি। বিয়ের দিনও টের পাইনি আসলে কি হচ্ছে। যতদিন যাচ্ছে তত কষ্টটা বাড়তেছে। কারণ এখন আর খুঁজলেই ওকে পাচ্ছিনা। মেসেজ দিলে সেগুলা কেউ সিন করছেনা। আমি ওর বাসা চিনি। ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথেই পড়ে। আমি যাওয়ার সময় ওকে ফোন দিতাম, ও প্রায়ই বাইরে এসে দাঁড়াত। এখনো ক্লাসে যাই। বাড়িটার দিকে বোকার মত তাকিয়ে থাকি। তারপর ফোনের দিকে তাকাই। বুঝতে পারি, এই বাড়িতে আর কেউ থাকেনা। ফোন দিলে কেউ বেরোবেনা। আর তখন রাস্তায়ই চোখ ভিজে যায়। আসলে আমি প্রায় ছেলেকেই দেখি, যারা প্রেম করছে। ভালোও বাসছে। কিন্তু তাঁরা খেয়ে বসে দিন কাটাচ্ছে। ভাবছেনা এই মেয়েটার একদিন হুট করে বিয়ে ঠিক হবে। আর তখন ছেলেটাকে গিয়ে তাঁর মা বাবার সামনে দাঁড়াতে হবে, আর বলতে হবে আমি ভালো চাকরী করি। আপনার মেয়েকে আমিই বিয়ে করতে চাই। এখন বুঝবেন না। যখন হারাবেন তখন বুঝবেন। খুবতো সোলমেট খুঁজে বেড়াচ্ছেন। পেলে তাকে ধরে রাখতে পারবেনতো ? এত্ত বড় ব্যাক্তিগত লেখাটা আমার টাইমলাইনে লিখা উচিত ছিল। কিন্তু এসব আমার বন্ধুরা পড়লে, আমাকে জুতা মারবে। জানিনা এখানেও পরচিত কেউ আছে কি না। কথাগুলো কোথাও বলতে মন চাচ্ছিল। তাঁর জন্যেই লিখা। যাই হোক, আশা করি এডমিন পোস্টটা এপ্রুভ করবে। যদিও এটা পড়ে কারো তেমন কোন উপকার হবেনা। কিন্তু অন্তত একটা ছ্যাঁকাখোরের এসব অনর্থক কথা পড়ে বিনোদন পাবেন।

Post a Comment

0 Comments